Shameem Kabir Smaran O Path

শামীম কবীর স্মরণ ও পাঠ

Original price was: ৳ 550.00.Current price is: ৳ 412.00.

Shameem Kabir Smaran O Path

শামীম কবীর স্মরণ ও পাঠ

Original price was: ৳ 550.00.Current price is: ৳ 412.00.

বইয়ের বিবরণ

Description

শামীমের কবিতা পাঠ শেষে কোনো বিশেষ অর্থসম্ভারে পুলকপ্রাপ্তি আদৌ সম্ভব নয়। মূলত তাঁর কবিতা প্রতি মুহূর্তে চমকে দেবে অদ্ভুত চিত্রকল্পের প্রাচুর্যে, প্রতিটি পঙ্ক্তি বা খণ্ডিত পঙ্ক্তির বিদ্যুৎ-প্রভা কিম্ভূতকিমাকার কল্পনাশক্তি, আমি বলব কল্পনা-আসক্তির শব্দ-স্থাপনে বা চরণভুক্তিকরণে তাঁর হাতে অলৌকিক জাদু-পারমাণবিক শক্তি ছিল, যা বোদ্ধা পাঠককে আহত করতে পারে, বিবশ করতে পারে বা অভ্যন্তরী পর্যায়ে স্তব্ধ করে দিতে পারে। –শোয়েব শাহরিয়ার

মূলত শামীম কবীরেরা হলেন এক বুনো দেবতা, যাঁরা জীবনের সাথে এক অন্তরিন খেলায় মেতেছিলেন। ফরাসি কবি জাক ভাশে মনে করতেন, আলোকপ্রাপ্তির কোনো পর্যায়ে জীবনের নিরর্থকতার ভাবনা মনে হয় অনেকটা হাস্যোদ্রেককর। ভাশে বুঝিয়েছেন যে নিরর্থকতা এক অনিবার্য বিষয়। শামীম কবীরও তা-ই ঠিকঠিক মনে করতেন। জীবন যেন মৃত্যুর এক নিমিত্ত মাত্র, তবে কোনো ভুল নয়, এটা ‘মূলত ডানার দোষ’। এ এক যাত্রা, এক মহাজাগতিক ভ্রমণ। –কুমার চক্রবর্তী

শামীম কবীর নব্বইয়ের দশকের অন্যতম প্রভাবশালী ও নিভৃতচারী কবি। তাঁর কবিতায় পরাবাস্তবতা, নাগরিক একাকিত্ব এবং আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য মিশেল লক্ষ করা যায়। তাঁর কাব্যশৈলীর প্রধান দিকগুলো হলোÑবিমূর্ত প্রকাশ, প্রচলিত ছন্দের বাইরে চূর্ণ গদ্য, চিত্রাত্মক পরিচর্যা। ব্যক্তিক বিষাদ ও বিচ্ছিন্নতাবোধ, আধুনিক মানুষের নিঃসঙ্গতা এবং অস্তিত্বের সংকট বিচিত্রমুখী ব্যঞ্জনায় তিনি প্রকাশ করেছেন। শব্দ চয়নে শামীম অত্যন্ত সতর্ক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাপ্রবণ ছিলেনÑযা তাঁকে সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করেছে। –চঞ্চল আশরাফ

প্রচলিত কবিতাবিশ্বাসের কাছে বা কবিতালেখার ব্যাকরণের নিরিখে শামীমের কবিতার দূরত্ব তাঁর কবিতাগুচ্ছ পড়তে পড়তে আমি প্রত্যক্ষ করছি বারবার। কত অনুপম উপমা, কত অপ্রচলিত শব্দ, উপমার কত যে বৈচিত্র্য! সে তাঁর উভলিঙ্গ জামার ভাবনাই হোক, কিংবা সীমিত বাতাস, সর্বত্র এক সচকিত চলমানতার উপস্থিতি, এক ‘ভগ্ন ক্রুশে সাদা চাদরের মতো’ জমে থাকা তুষারের বসন্তপ্রত্যাশা দেখেছি আমি। –তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়

সমাধি থেকে ফিরি। শামীম কবীর আমার সঙ্গে সঙ্গে আসেন। ব্যাখ্যার বারান্দা খুলে দেন। বলেন, তার কবিতায় মৃত্যুচিন্তা সন্ধান করা বাতুল কর্ম; মরে গিয়ে তিনি বরং বেঁচে থাকা বেছে নিয়েছিলেন। তারপর, তাঁর সাড়ে চব্বিশ বছরের আয়ুমালা আর তাঁকে ছাড়া আমাদের সাড়ে ছাব্বিশ বছরের কবিতা ক’রে খাওয়াকে দূরে দাঁড়িয়ে দেখি। আমাদের অন্তরের আপসী আস্তানা আর উচ্চারণে গীতিশীল শয়তানিকে জাজ্বল্য করে দিতে দেখি ছাব্বিশ বছর আগে কবর বেছে শুয়ে পড়া শামীম কবীর ছেলেটাকে। সুররিক্ত আমাদের সে শোনায় তাঁর অলীক অগীতল-বাদন: –পিয়াস মজিদ

 

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “শামীম কবীর স্মরণ ও পাঠ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Description

শামীমের কবিতা পাঠ শেষে কোনো বিশেষ অর্থসম্ভারে পুলকপ্রাপ্তি আদৌ সম্ভব নয়। মূলত তাঁর কবিতা প্রতি মুহূর্তে চমকে দেবে অদ্ভুত চিত্রকল্পের প্রাচুর্যে, প্রতিটি পঙ্ক্তি বা খণ্ডিত পঙ্ক্তির বিদ্যুৎ-প্রভা কিম্ভূতকিমাকার কল্পনাশক্তি, আমি বলব কল্পনা-আসক্তির শব্দ-স্থাপনে বা চরণভুক্তিকরণে তাঁর হাতে অলৌকিক জাদু-পারমাণবিক শক্তি ছিল, যা বোদ্ধা পাঠককে আহত করতে পারে, বিবশ করতে পারে বা অভ্যন্তরী পর্যায়ে স্তব্ধ করে দিতে পারে। –শোয়েব শাহরিয়ার

মূলত শামীম কবীরেরা হলেন এক বুনো দেবতা, যাঁরা জীবনের সাথে এক অন্তরিন খেলায় মেতেছিলেন। ফরাসি কবি জাক ভাশে মনে করতেন, আলোকপ্রাপ্তির কোনো পর্যায়ে জীবনের নিরর্থকতার ভাবনা মনে হয় অনেকটা হাস্যোদ্রেককর। ভাশে বুঝিয়েছেন যে নিরর্থকতা এক অনিবার্য বিষয়। শামীম কবীরও তা-ই ঠিকঠিক মনে করতেন। জীবন যেন মৃত্যুর এক নিমিত্ত মাত্র, তবে কোনো ভুল নয়, এটা ‘মূলত ডানার দোষ’। এ এক যাত্রা, এক মহাজাগতিক ভ্রমণ। –কুমার চক্রবর্তী

শামীম কবীর নব্বইয়ের দশকের অন্যতম প্রভাবশালী ও নিভৃতচারী কবি। তাঁর কবিতায় পরাবাস্তবতা, নাগরিক একাকিত্ব এবং আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য মিশেল লক্ষ করা যায়। তাঁর কাব্যশৈলীর প্রধান দিকগুলো হলোÑবিমূর্ত প্রকাশ, প্রচলিত ছন্দের বাইরে চূর্ণ গদ্য, চিত্রাত্মক পরিচর্যা। ব্যক্তিক বিষাদ ও বিচ্ছিন্নতাবোধ, আধুনিক মানুষের নিঃসঙ্গতা এবং অস্তিত্বের সংকট বিচিত্রমুখী ব্যঞ্জনায় তিনি প্রকাশ করেছেন। শব্দ চয়নে শামীম অত্যন্ত সতর্ক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাপ্রবণ ছিলেনÑযা তাঁকে সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করেছে। –চঞ্চল আশরাফ

প্রচলিত কবিতাবিশ্বাসের কাছে বা কবিতালেখার ব্যাকরণের নিরিখে শামীমের কবিতার দূরত্ব তাঁর কবিতাগুচ্ছ পড়তে পড়তে আমি প্রত্যক্ষ করছি বারবার। কত অনুপম উপমা, কত অপ্রচলিত শব্দ, উপমার কত যে বৈচিত্র্য! সে তাঁর উভলিঙ্গ জামার ভাবনাই হোক, কিংবা সীমিত বাতাস, সর্বত্র এক সচকিত চলমানতার উপস্থিতি, এক ‘ভগ্ন ক্রুশে সাদা চাদরের মতো’ জমে থাকা তুষারের বসন্তপ্রত্যাশা দেখেছি আমি। –তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়

সমাধি থেকে ফিরি। শামীম কবীর আমার সঙ্গে সঙ্গে আসেন। ব্যাখ্যার বারান্দা খুলে দেন। বলেন, তার কবিতায় মৃত্যুচিন্তা সন্ধান করা বাতুল কর্ম; মরে গিয়ে তিনি বরং বেঁচে থাকা বেছে নিয়েছিলেন। তারপর, তাঁর সাড়ে চব্বিশ বছরের আয়ুমালা আর তাঁকে ছাড়া আমাদের সাড়ে ছাব্বিশ বছরের কবিতা ক’রে খাওয়াকে দূরে দাঁড়িয়ে দেখি। আমাদের অন্তরের আপসী আস্তানা আর উচ্চারণে গীতিশীল শয়তানিকে জাজ্বল্য করে দিতে দেখি ছাব্বিশ বছর আগে কবর বেছে শুয়ে পড়া শামীম কবীর ছেলেটাকে। সুররিক্ত আমাদের সে শোনায় তাঁর অলীক অগীতল-বাদন: –পিয়াস মজিদ

 

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “শামীম কবীর স্মরণ ও পাঠ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *