Description
‘ঘোলা জলে সোনা ফলে’ নামটার মধ্যেই কী যেন এক আকর্ষণ আছে। তার ওপর লেখক যদি শফিক হাসান হন তবে আর না পড়ে উপায় কী! ব্যক্তি ও লেখক শফিক হাসানের সঙ্গে আমার পরিচয় বা হৃদ্যতা দুই দশকেরও বেশি। আমাদের লেখালিখির কালও বোধহয় অভিন্ন। প্রথম আলোর এককালের তুমুল প্রাঠকপ্রিয় রম্য-বিদ্রূপ ম্যাগাজিন আলপিন আর পাঠক সংগঠন বন্ধুসভায় আমরা একই সময় লেখালিখি করেছি। দুহাতে লিখেছি বললেও খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না। সেই থেকে শফিক হাসানের লেখা পড়ি বেশ আগ্রহ নিয়ে। বাজারে আজকাল মিহি দানার প্যাকেটজাত যেসব লবণ পাওয়া যায়, ঠিক সেরকমই যেন ঝরঝরে তার লেখা। বিশেষ করে তার রসরচনা বা রসগল্পের ছোট ছোট বাক্য আর সঙ্গে দুর্দান্ত বিদ্রূপের সমন্বয়Ñপাঠক হিসেবে আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করে। একটি জাতীয় দৈনিকের রম্য ও বিদ্রূপ সাময়িকী সম্পাদনার সুবাদে প্রায় প্রতি সপ্তাহে তার লেখা পাই। সেই একই রকম ঝরঝরে। নোনতা, টক, মিষ্টি–সব স্বাদ যেন মিলেমিশে একাকার।
এরমধ্যে তার কয়েকটি রম্য গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ‘ঘোলা জলে সোনা ফলে’ও সোনা ফলাবে সন্দেহ তাতে নেই। আমার হয়তো সব গল্প পড়েই নতুন রম্যগ্রন্থটি সম্পর্কে মন্তব্য করা উচিত। ভাত যেমন একটা টিপলে পুরো হাঁড়ির খবর বোঝা হয়ে যায়, শফিক হাসানের লেখাও তেমনি। একটা পড়েই বাকি গল্পগুলোকেও দিব্যি সনদপত্র দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া যায়।একাধিক গল্প পত্রিকায় আগেই পড়ার সুযোগ হয়েছে আমার। বাকিগুলো না পড়েই নির্ভয়ে পাঠকদের নতুন এ বইয়ে আমন্ত্রণ জানাই। তাছাড়া সব পড়ে ফেললে বই কেনার আকর্ষণ কমে যেতে পারে। তাই অপঠিত গল্পগুলো বইয়ে পড়ার জন্য তুলে রাখলাম। কথা আর না বাড়াই। শেষ কথা ওই একটাইÑ শফিক হাসানের গল্প বাসি হওয়ার জো নেই। আগে পড়ুন, পরে পড়ুন, ফেসবুকে পড়ুন, পত্রিকায় পড়ুন বা বইয়েÑসবসময় মনে হবে গরম গরম, তরতাজা। –ইমন চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক
Reviews
There are no reviews yet.