Description
…বাংলাদেশের মুক্তির আন্দোলনের নেতারা এমন এক সমাজ কল্পনা করেছিলেন, যার ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ। পাকিস্তানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হলেই এ বদ্বীপের অর্থনীতি তরতর করে সামনে এগিয়ে যাবে এবং সবকিছুরই ব্যবস্থা করা হবে।এমন সব ধারণাই নতুন রাষ্ট্র, অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নামে আর দ্রুতই হাতের মুঠোয় আসতে থাকা ‘সোনার বাংলা’র নামে প্রচার করা হতো। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ এখনো ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ হলেও এসব পুরোনো আদর্শ বেশির ভাগ নাগরিকের কাছেই ফাঁকা বুলি মনে হবে। সময়ের বিধ্বংসী আঁচড়ের সঙ্গে যুঝে এখন পর্যন্ত টিকে আছে কেবল জাতীয়তাবাদ।১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের খাতায় চলে গেছে, আর গণতন্ত্রের ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে দোদুল্যমান ও অস্থিতিশীল। ‘সোনার বাংলা’কে এখন ভবিষ্যতের পরিকল্পনার পরিবর্তে বরং দেখা হয় স্বপ্নের এক অতীত হিসেবে। বাংলাদেশের প্রথম দিককার নেতারা তাঁদের স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক মডেলের আবেদনে ফাটল ধরায় এ বিষয়টি; যে মডেলটি ছিল পরিমার্জিত ঔপনিবেশিক ভদ্রলোকদের জীবনযাত্রা এবং জনপ্রিয় পূর্ববঙ্গীয় ধারার একটি সমন্বয় (দেখুন অধ্যায় ১৬)। স্বপ্নভঙ্গ দেখা দিতে শুরু করে, আর ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সেনাশাসকদের উত্থান উগ্র এবং আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার এক নতুন মডেলের জন্য জায়গা করে দেয়। এক প্রজন্ম আগে মফস্বলের বাঁধন ছিড়ে আসা অপেক্ষাকৃত প্রবীণ অভিজাতরা ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে এক নতুন ধরনের ‘মফস্বলীকরণের’ মুখোমুখি হন। নতুন ক্ষমতাসীনেরা তাঁদের চোখে ছিলেন অর্ধশিক্ষিত ভূঁইফোড়, যাঁদের সামনে বাংলা সাহিত্যের প্রেম, রবীন্দ্রসংগীতের সূক্ষ্ম সব অনুভূতি এবং জীবনের নানা সুকুমার বিষয় পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে পড়ে। নতুন এই সাংস্কৃতিক মডেল ছিল আত্মসচেতন হঠাৎ-ধনী লোকেদের মডেল: যেখানে কাপড়চোপড় হতে হবে চোখধাঁধানো, গয়নাগাটি হতে হবে ভারী, বাড়িঘর আর আসবাব হতে হবে জমকালো। বিনম্র কবি, লাজুক গৃহিণী অথবা আদর্শবাদী ছাত্রনেতার পরিবর্তে সংস্কৃতির নতুন নায়ক হয়ে উঠল রাস্তায় হল্লা করে বেড়ানো লোকেরা মস্তান বা মাস্তান বলে যারা পরিচিত।…
Reviews
There are no reviews yet.