
মেট্রো রেলের শাহবাগ স্টেশনে এই মুহূর্তে লোকজনের ভিড়ভাট্টা তেমন নেই। আনন্দি অবাক হয়। আজ এই সময়টায় এতো ফাঁকা পাবে, ভাবেনি। সাধারণত শাহবাগ স্টেশন থেকে উত্তরা, মিরপুর, আগারগাঁও যেতে অনেক নারী-পুরুষ মেট্রো রেলের যাত্রী হয়। একটা ফাঁকা সিট দেখে বসে পড়ে দ্রুত। সামনেই আবার কারওয়ান বাজার স্টেশন। ওখান থেকে অনেক লোকজন উঠতে পারে। সেটাও ব্যস্ত জনবহুল একটা জায়গা। সেখানে পৌঁছুতে বেশি সময় লাগে না। হুড়মুড় করে যাত্রী উঠছে। হঠাৎ সুষমাকে দেখে চমকে ওঠে। এখানে কোত্থেকে এলো সে? প্রশ্ন করে নিজেকে।
‘আরে সুষমা, দোস্ত তুই এই সময়ে কোত্থেকে? তোর না অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে থাকার কথা এখন। এইখানে কী করিস?’
‘এক সাথে এত্ত এত্ত কোশ্চেন করলে কোনটার জবাব দেবো? আগে তোর পাশে বসার জায়গা দে। সরে বস একটু। সেই উত্তরা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতে পারবো না। এমনিতেই খুব টায়ার্ড হয়ে গেছি রে’, হন্তদন্ত হয়ে কথাগুলো বলে জিন্স বেলবটম আর সার্ট পরা সুষমা। তার মুখে হালকা মেকআপ। সেজেগুজে কোথায় গিয়েছিল, কে জানে? এর আগেরবার তাকে যখন দেখেছিল, তখন আটপৌরে বাঙালি মেয়ের সাজে দেখেছে। এবার তাকে স্মার্ট গেটআপে দেখে খুব বেশি অবাক হয় না আনন্দি। আজকাল ঢাকা শহরে মেয়েদের জন্য এমন সাজপোশাক নতুন কোনো ব্যাপার নয়। শপিংমল, সুপারমার্কেট,কলেজ ভার্সিটি কর্পোরেট অফিসগুলোতে এমন জিন্স বেলবটম, সার্ট-ফতুয়া, সর্ট কামিজ কিংবা টি শার্ট পরা তরুণী, এমনকি অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সী নারীদেরও দেখা যায়। তবে এই মুহূর্তে সুষমার সাজ পোশাকের পরিবর্তনটা সহপাঠী বান্ধবী হিসেবে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের ধাক্কা দিয়েছে তাকে। একসময় এই সুষমাকে হিজাবে মাথা ঢেকে ক্লাসে আসতে দেখেছে তো! বেশ পরিপাটি, গোছানো একটা মেয়ে হিসেবে তাকে ভালো লাগতো ভার্সিটির ছেলে-মেয়ে সবার কাছে। দেখতে সুন্দরী বলে ভার্সিটিতে সুষমার কাছাকাছি আসতে অনেক ছেলেই রীতিমতো একধরনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। সুষমা তেমন কাউকে পাত্তা দিতে চাইতো না। তবে একটি ছাত্র সংগঠনের নেতা শিহাবকে ফেরাতে পারেনি সুষমা। তার প্রেমের ফাঁদে কীভাবে যেন আটকে গিয়েছিল। শিহাব মনজুর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের মাঝারি অবস্থানের নেতা ছিল। নিজের আখের মোটামুটি ভালো গুছিয়ে নিয়েছিল পড়াশোনার ফাঁকে। ব্যবসা বাণিজ্য, ব্যাংক ব্যালেন্স, লেটেস্ট মডেলের গাড়ি সবকিছু অর্জন করতে বেশি সময় লাগেনি তার। শিহাবের বান্ধবী, প্রেমিকা হিসেবে সুষমাকে সবাই কিছুটা সমঝে চলতে শুরু করেছিল তখনই। শিহাবের সাথে প্রেম করতে গিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে সে।
জীবনযুদ্ধে নামার পর আনন্দির সাথে সেই আগের ভার্সিটি লাইফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটা হালকা হয়ে গেলেও সুষমার সঙ্গে সম্পর্কটা টিকে আছে এখনও। কারণ, ভার্সিটির সহপাঠী বান্ধবী হলেও তারা মামাতো-ফুপাতো বোন। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, দাওয়াতে গেলে দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে যায় দুই কাজিনের। ফলে সুষমার আপডেট প্রায় সবকিছুই জানা তার। কিছুদিন আগে জেনেছিল, অষ্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন চলে যাচ্ছে সে। শিহাবের স্পাউস হিসেবে যাচ্ছে ওখানে। কুইন্সল্যান্ড ভার্সিটিতে এডমিশনের প্রসেস চলছিল তখন। বিভিন্ন পেপারস রেডি করছিল শিহাব। বেশ ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে। আজকাল বেশ জটিল হয়ে গেছে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার প্রক্রিয়া। গত এক-দুই বছরে ছেলে-মেয়েদের অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার হুজুগ শুরু হয়েছে। এখন আমেরিকা, কানাডা কিংবা ইউরোপীয় দেশগুলোতে যাওয়া নাকি অনেক কঠিন হয়ে গেছে। সেখানকার ভার্সিটিতে পড়ার জন্য স্কলারশিপ ম্যানেজ হলেও সেই দেশের অ্যাম্বেসি ভিসা দিতে চাইছে না। অথচ একসময় হুড়মুড় করে সেইসব দেশে গেছে এখানকার ছেলে-মেয়েরা।
‘কিরে, অস্ট্রেলিয়া না যেতেই বেশভূষা বদলে ফেলেছিস। হেব্বি স্মার্ট এন্ড বিউটিফুল লাগছে তোকে। বিয়ে শাদি হয়ে গেছে। শিহাবের স্পাউস হিসেবে বিদেশে যাচ্ছিস। দেখে তো মনে হয়, এখনো ভার্সিটির স্টুডেন্ট তুই! এসব না জানলে তো প্রপোজ করে বসতে পারে যে কোন ছেলে!’
‘এগুলো কি কমপ্লিমেন্টস, নাকি আমাকে টিজ করছিস? কর,কর,করবিই তো! তোদের কাজ তো কেউ উপরে উঠতে চেষ্টা করলে তাকে ট্রল করা, ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করা। শিহাবের সাথে বন্ধুত্ব, বিয়ে, এখন আবার বিদেশে যাওয়া-এইসব তো সহ্য হয়না কারো’।
‘আরে ধুর, তুই আমার সেই ছোডোকালের বান্ধবী। তোর লগে মুই দুষ্টামি, ঠাট্টা তামাশা করমু না তো আর কার লগে করমু ?’, বলে আনন্দি একহাতে তাকে জড়িয়ে ধরে।
দুই তরুণীর খুনসুটি কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের কেউ কেউ খেয়াল করলেও তেমন মনোযোগ দিচ্ছে না। তারা আছে তাদের মতো। মিরপুর ১১ পেরোতে পেরোতে বলতে গেলে আশেপাশের প্রায় সব লোকজন নেমে যায়। অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় বগিটা। আনন্দি আর সুষমা ছাড়া কাছাকাছি তেমন কোনো যাত্রী দাঁড়িয়ে কিংবা সিটেও বসে নেই। এতে তাদের মনখুলে কথা বলতে সুবিধা হয়। অস্বস্তি বোধ হয় না।
‘শিহাবের কারণেই তো আমার এই ট্রান্সফরমেশন। আমার আগের সেই আটপৌরে বাঙালি বধূর লুকটা একদম পছন্দ করেছিল না সে। তার মন রাখতেই তো আমাকে এই সাজপোশাক নিতে হলো।ও বললো, বিদেশে যাচ্ছো, সেখানে তো দেশি সাজপোশাক চলবে না। এখান থেকেই প্রাকটিস করে নাও। তা না হলে হঠাৎ করে পরলে আনইজি লাগতে পারে। এখানেও প্রথম প্রথম অস্বস্তি লাগতো। কেমন লজ্জা লজ্জা লাগতো। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। কী আর করবো, হাজবেন্ড যদি চায় তাহলে সেটা না করে পারি? তার মন রাখতে তো আরও কতো কী করছি। সবকথা কী মুখ ফুটে বলতে পারি। তুই বুঝবি কীভাবে? তোর তো সেই এক্সপেরিয়েন্স হয়নি। তুই তো আজও ব্যাচেলর। কারো ওয়াইফ হয়ে দেখ, কেমনে কীভাবে কী হয়, বুঝবি’, বলেই আনন্দির গালটা আলতো করে টেনে দেয় সুষমা।
তার কথা শুনে আলতো হাসি আনন্দির ঠোঁটের কোনে ফুটে উঠলেও মুহূর্তেই তা মিলিয়ে যায়, এবার বলে, ‘হাজবেন্ড বললেই যা খুশি তাই করতে হবে বুঝি? তার যেমন মর্জি তেমন করে সাজিয়ে গুছিয়ে তুলতে হবে, তেমন ভাবে চলতে হবে, খেতে হবে, ফিগার মোটা-তাজা অথবা স্লিম-ট্রিম করা লাগবে! এইটা তুই কোথায় পাইলি’? তার মুখে এমন প্রশ্ন শুনে কিছুটা থতমত খেয়ে যায় সুষমা। তার চেহারা থেকে আত্মবিশ্বাসী ভাবটা ক্রমেই যেন হারিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ করে তার মুখে কোনো কথা জোগায় না। বিষন্নতা ভর করে যেন সেখানে। তাকে এই মুহূর্তে আর ঘাটাতে চায়না আনন্দি। চাইলেই সে বেশ কিছু কথা শুনিয়ে দিতে পারে। যা সুষমার কাছে প্রফেসর অথবা কোনো বুদ্ধিজীবির লেকচারের মতো মনে হতে পারে।
বাইরে থেকে সুষমাকে যতটা স্মার্ট মেয়ে মনে হয়। আসলেই কি সে তেমন! তার মতো কতো সুন্দরী স্মার্ট মেয়ে আত্মবিশ্বাসী ভাব নিয়ে আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। সুষমা ভার্সিটি থেকে পাস করে আসা সুশিক্ষিত একটা মেয়ে। যার জীবন বাইরে থেকে নিখুঁত মনে হলেও ভেতরে রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা ও গভীর একাকীত্ব। স্বামীর কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ ও খুব কাছের, মনের মতো একজন হিসেবে থাকার জন্য রাতদিন নানা কসরত করে যাচ্ছে। এজন্য নিজেকে বারবার বদলানোর চেষ্টা করতে ক্লান্তি কিংবা বিরক্তি নেই। স্বামী যেমনভাবে তাকে চায় সেভাবেই সমর্পন করছে নিজেকে। এতে একধরনের সন্তুষ্টি অনুভব করলেও ভেতরে ভেতরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সে। কিছুদিন আগে কথায় কথায় আনন্দিকে বলেছিল সে। ‘জানিস, আমি নাকি খেতে খেতে মোটা ধুমসি হয়ে গেছি, এমন মোটা মেয়েরা নাকি দাম্পত্য জীবনে সুখ দিতে পারেনা স্বামীকে। হাজবেন্ড যদি এমন কথা বলে তাহলে কোথায় যাই? তুই বল! শিহাবের কথায় আমাকে ডায়েট কন্ট্রোল করে ওজন কমাতে হচ্ছে। কি যে ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে আমাকে,’ সুষমার সেই কথাগুলো এখনও কানে বাজছে। শুধু স্বামী কিংবা শ্বশুর বাড়ির লোকজনের চাপে অথবা তাদের মন রাখতেই নয় সামাজিক জীবনেও অনেক মেয়েকে রূপ, গায়ের রঙ নিয়ে অনিরাপত্তায় ভোগানো হয়। চারপাশের সবাই এমন চাপ তৈরি করে যে তারা নিজেদের নিয়েই কনফিউজড হয়ে পড়ে। স্বামী শিহাবের প্রেমে অন্ধ আবেগে শুরুতে একটা ট্র্যাপে পড়ে তার মেজাজ মর্জি রুচি পছন্দ অনুযায়ী নিজেকে তুলে ধরতে ধরতে একটা অদৃশ্য কারাগারে যেন বন্দী হয়ে পড়েছে সুষমা । সেই কারাগারে বন্দী হয়ে থাকতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে আজকাল। সেই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইলেও পরিবার ও সামাজিক চাপে অসহায়ভাবে আটকে আছে। হাঁসফাঁস করে মরছে এখন।
সুষমাকে দেখে আনন্দীর ভীষণ কষ্ট হয়, মায়া হয়। আহারে, কত কষ্ট নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে সুখী, আত্মবিশ্বাসী, স্মার্ট আধুনিকা একটি মেয়ের অভিনয় করে যাচ্ছে সে। ‘আচ্ছা, সুষমা একটা কথা বলি,তুই কী কখনো ভেবেছিস আসলেই তুই কি এই জীবনটা ডিজারভ করিস,তুই কি সিরিয়াসলি নিজের আত্মপরিচয় খুঁজতে চেষ্টা করেছিস? শিহাব কী কখনো তোর পছন্দ, রুচি, ভালো লাগা মন্দ লাগার কথা জানতে চেয়েছে? সে তো তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী তোর জীবনটা চালানোর নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে জামা-কাপড়, সাজসজ্জা, লাইফস্টাইল, দাম্পত্য আচরণ, আদর-সোহাগ ইত্যাদি সবকিছুতেই তার খবরদারি তোকে এভাবে অন্ধের মত মেনে নিতে হবে কেন?
একটানা লেকচারের মত শোনায় আনন্দির কথাগুলো। তবুও তার ভালো লাগে নিজের কাছে। এরপরও মেয়েটির মধ্যে যদি একটা বোধ জাগে। এই কথাগুলো সুষমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটানা বেশ কিছুক্ষণ আনন্দির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। অনেকগুলো অপ্রিয় সত্য কথা এভাবে অকপটে বলে ফেলেছে কাজিন কাম বান্ধবীটি। তার বলা একটা কথাও মিথ্যে কিংবা অপ্রয়োজনীয় নয়।
ছুটন্ত মেট্রো রেলের শব্দ ছাপিয়ে সুষমা বলে ওঠে, ‘আমি অনেক সহ্য করেছি। ভুল করেছি। যার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাকে অনেক কষ্ট নিজের মধ্যে চেপে রেখে জীবনযাপন করতে গিয়ে। নাউ এন্ড নেভার, ইট উইল নট রিপিট। আই উইল প্রটেক্ট হিম এন্ড আদারস।। নিজের আইডেন্টিফিকেশনটা আমার কাছে মূখ্য। আমি যেমন, তেমনভাবেই জীবনযাপন করতে চাই, বাঁচতে চাই। আমি যেমন, সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট। আমার মধ্যে লিমিটেশন যেমন আছে, তেমনি আমার অনেক গুণ আছে, যোগ্যতাও আছে। আমি সেই আত্মস্বীকৃতি নিয়ে জীবনটাকে সাজাতে চাই। স্বামীর অবাধ্য হয়ে উশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে তো চাইছি না। আমার বিশ্বস্ততা, সততা, ভালোবাসা, আকর্ষণ কিছুতেই তো কমতি নেই। সবকিছুই অটুট রয়েছে। থাকবেও। কিন্তু তাই বলে তার সব কথা এভাবে আর মেনে নেবো না। আজ এখানে তোকে বলে দিলাম’।
‘আমার কথায় তুই আবার শিহাবের সাথে ঝগড়া বিবাদ শুরু করে দিবি নাকি, কনফ্রেন্টেশনে যাবি বুঝি! আমি তোর মধ্যে একটা বোধ, সচেতনতা জাগাতেই এই কথাগুলো আগে থেকেই বলে আসছি। এর মাধ্যমে যদি সেই কষ্টের বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে নতুন করে জীবনটাকে সাজাতে পারিস, তাহলে আমি খুব খুশি হবো। তুই যেমন, সেটা তোর জন্য যথেষ্ট, আত্মপরিচয়টাক জলাঞ্জলি না দিয়ে বুক চিতিয়ে বাঁচাটাই তো জীবনেরই সৌন্দর্য।’
আনন্দির কথা শুনে সুষমার দু চোখ টলমল করছে। কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে দুই গাল বেয়ে। এতে তার মুখের মেকআপ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই। নিজেকে নিজের মতো করে ভাবতে শিখিয়েছে আনন্দি। কৃতজ্ঞতায় তার প্রতি উথলে উঠেছে মনটা। এরমধ্যেই তার একটা হাত ধরে মৃদু চাপ দিয়ে হেসে বলে, থ্যাংকস, আনন্দি। এ লট অব থ্যাংকস ফর ইয়্যু। ইয়্যু চেঞ্জ মাই লাইফ। রিয়েলি, লাইফ ইজ এনজয়বল এন্ড বিউটিফুল।
তারা দুজন হঠাৎ খেয়াল করে ছুটন্ত মেট্রো রেলটা থেমে গেছে। আর চলছে না। বাইরে তাকিয়ে দেখতে পায়, উত্তরা স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে ওটা। আর সামনে যাবে না। এখানেই তার ছুটে চলা আপাতত শেষ। হয়তো আবার কিছুক্ষণ বিরতির পর যাত্রী নিয়ে মতিঝিলের দিকে ছুটতে শুরু করবে। কথায় কথায় কীভাবে এতোটা পথ অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছে গেছে ওরা, অনুভব করতে পারেনি। উত্তরা স্টেশনে নেমে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে সুষমার উপলব্ধি হয়, আনন্দি তার ছোটকালের বান্ধবী আবার ভার্সিটিতেও সহপাঠী ছিল। আজ তার কাছে মন খুলে অনেক কথা বলেছে সে। বেশ হালকা অনুভব হচ্ছে। এতোদিন ধরে একধরনের দুঃখবোধ, হতাশা, অক্ষমতার গ্লানি কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল তাকে। দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কে যখন একতরফা একজনের চাপিয়ে দেয়া ব্যাপার মূখ্য হয়ে ওঠে তখন সেটা আনন্দময়, সুখের থাকে না। সেটা হয়ে ওঠে বিষাক্ত, অস্বস্তিকর। আজ থেকে সেই গ্লানি, দুঃখবোধ, হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন এক গন্তব্যে পৌঁছে গেছে সে। একধরনের ভালো লাগা অনুভূতিতে ছেয়ে যাচ্ছে মনটা। আনন্দির দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসতে থাকে সুষমা। অনেকক্ষণ ধরে তার হাসি চলতে থাকে। উচ্ছ্বাসে ভরপুর একটা হাসিখুশি মেয়ের মুখ দেখে আনন্দির মনটাও ভরে যায়। #