Description
সকালবেলা পুবের ঐ মাঠ এবং মাঠের পাশের পথটির দৃশ্য এক অতি স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই দৃশ্যটি খুব আকর্ষণ করে এই জন্য যে, স্বাভাবিক বস্তুটি আজকাল খুব সুলভ নয়।
দুটি বাচ্চা ছেলেকে রোজ দেখি। ফর্সা, ফুটফুটে ছেলে, দেখেই মনে হয় খুব সুশীল, আকৃতি-প্রকৃতিতে একই রকম, প্রায় যমজ মনে হয়, কিন্তু যমজ নয়, শান্ত পায়ে পথের ওপর চোখ রেখে হেঁটে যায়। পাজামা আর রঙিন পাঞ্জাবি গায়ে, মাথায় সাদা টুপি। হাতে আমসাপারা। সামনেই কোনো মক্তবে বা মৌলবী সাহেবের কাছে আমসাপারা শিখতে যায়। পুব দিকের মাঠ পেরিয়ে আরো পুবে কয়েকটি টিনের ঘরের যে ছোট্ট আস্তানাটি দেখা যায়, সেই দিক দিয়েই গুটিগুটি পায়ে এই দু’ভাই এই দিকটায় আসে। দেখতে খুব ভালো লাগে। ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে যায়। আব্বার কী কড়া শাসন ছিল। ছ’সাত বছর বয়স থেকেই, ঐ দুটি ছেলেও তাই নামাজ পড়তে বাধ্য হতাম। সবচাইতে কষ্ট হতো ‘আসর’- এর নামাজের সময়। সকলেই যখন খেলাধুলো করছে, সেই সময়টাতেই আমাকে নামাজ পড়তে হচ্ছে। তাই মনটা পড়ে থাকতো খেলার মাঠেই। ছেলেবেলার সেই নামাজ কবুল হয়েছে কি না আল্লাহই জানেন। ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ তো পড়তেই হতো; কিন্তু সেই সঙ্গে একটি ছোট্ট ‘সুরা’ও জানা ছিল ‘কুলহু আল্লাহ’! এই দুটি ‘সুরা’ দিয়েই নামাজ সেরে খেলার মাঠে দৌড় দিতাম। অবশ্য, বয়স যতোই বাড়তে লাগলো আমাদের ওপর আব্বা তার নিয়ন্ত্রণ ততোই হারিয়ে ফেললেন।
Reviews
There are no reviews yet.